করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার উপায়
  • করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার উপায় ও লক্ষণ  ঃ  

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস ( কোভিড১৯) সারা বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করা এই ভাইরাস। ইতোমধ্যে চীন, ইতালি, ইরান ও স্পেনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। ছোঁয়াচে এই ভাইরাস কাঁপিয়ে দিয়েছে বিশ্বের নামীদামী সব ডাক্তার এবং গবেষকদের । ধারণা করা হচ্ছে চীন এর উহান থেকে এই রোগের উৎপত্তি।এরপর সংক্রমিত হয়েছে একজন থেকে আরেকজনে। ছোঁয়াচে হওয়ায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে এক দেশ থেকে আরেক দেশে। নিমেষেই ভাইরাসটি আক্রমণ করে ফেলছে মানবদেহ আর সেই সাথে নিয়ে নিচ্ছে আক্রান্তের জীবন। এতো উন্নত দেশ হওয়া সত্বেও যেখানে ইতালী আর চীন রক্ষা পাচ্ছেনা সেখানে হুযুগপ্রিয় বাঙ্গালী জনসমাগম পছন্দ করায় এই ভাইরাস যদি একবার এই দেশে  মহামারী আকার ধারণ করে ফেলে তাহলে সেইসব উন্নত দেশের থেকে বেশি লাশের বহর তৈরী হবে বাংলাদেশে।

করোনাভাইরাসের লক্ষণঃ
এই ভাইরাসের সাধারণ লক্ষ্মণ হলো জ্বর,ক্লান্তি এবং শুকনো কাশি। কিছু রোগীর শরীর ব্যথা, সর্দি, নাক বন্ধ হওয়া, গলাব্যথার সাথে ডায়রিয়াও হতে পারে। এই লক্ষ্মনগুলো প্রথমেই তীব্র থাকেনা- ধীরে ধীরে প্রকাশিত হয়।অনেকের ক্ষেত্রে সংক্রমিত হলেও রোগের লক্ষ্মনসমূহ প্রকাশ পায়না।
তবে উচ্চ রপক্তচাপ,হার্টের সমস্যা বা ডায়বেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

করোনাভাইরাস যেভাবে ছড়ায়ঃ
এই ভাইরাস ছড়ায় শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তি হতে। কোভিড -১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলে বা তার হাঁচি কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস আপনার দেহে প্রবেশ করবে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি কাশির সময় নাক বা মুখ থেকে নিঃসৃত ছোট ছোট ফোঁটাগুলি ব্যক্তি বা পৃষ্ঠের গায়ে পড়ে। সুস্থ কোনো ব্যক্তির ছোঁয়া তাতে লাগলে সেই সুস্থ ব্যক্তি আক্রান্ত হয়ে যাবেন ।
এজন্যে অন্তত এক মিটার দূরত্ব রাখা বাঞ্চনীয়। আত্মঘাতী এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে এই মুহুর্তে সচেতনতা ছাড়া আর কোনো উপায়ই পরিলক্ষিত করা যাচ্ছেনা। এরজন্যে শুধু প্রয়োজন একটু জনসচেতনতা। আপনি চাইলে বাড়িতে থেকেই এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার উপায়ঃ  

১. হাত ধোঁয়ার অভ্যাস পাকাপোক্ত ভাবে গড়ে তুলুন। নিয়মিত হাতধোঁয়া শুরু করুন এবং প্রতিবার প্রায় ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধৌত করুন। বাইরে যান বা না যান – ঘরের যেকোনো বস্তু অযথা স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন এবং হাতধোঁয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন।কারণ প্রতিবার হাতধোঁয়া আপনার হাতে থাকা জীবাণু মেরে ফেলবে যা আপনার মুখ পর্যন্ত পৌছাতে পারবেনা।

২. হাঁচি কাশি দিচ্ছে এমন ব্যক্তি হতে নিজেকে প্রায় ১ মিটার দূরত্বে রাখুন কারণ সেই ব্যক্তি যদি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে তবে তার থেকে ছড়িয়ে পড়া ছোট ছোট তরল ফোটার দ্বারা আপনিও আক্রান্ত হয়ে যাবেন।

৩. অকারণে হাত দিয়ে চোখ-নাক-মুখ স্পর্শ থেকে বিরত থাকুন। প্রতিনিয়ত হাত দিয়ে আমরা নানা বস্তু স্পর্শ-সেগুলোতে ভাইরাস থেকে থাকলে তা হাতের মাধ্যমে আমাদের নাক মুখে প্রবেশ করে দেহে বাসা বাঁধতে পারে।এতে করে আপনি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

৪. আপনার আশেপাশের লোক এবং আপনি নিজে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন।হাঁচি বা কাশির সময়ে হাতের কনুইয়ের বাঁকা অংশে হাঁচি বা কাশি দিন।টিস্যু ব্যবহারের সাথে সাথে ফেলে দিয়ে নতুন টিস্যু নিন।অন্যদেরও এই ব্যাপারে সচেতন করুন।

৫. আপনি অসুস্থ বোধ করলে সাথে সাথে হাসপাতালে বা জনসমাগমে না গিয়ে ঘরে থেকে চিকিৎসা নিন।ঠান্ডা লাগলে বা হালকা জ্বর বোধ হওয়া মানেই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া না। এই মৌসুমে এরকম বোধ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জানান দিন যেন তাদের কাছে এই ভাইরাস সম্পর্কে যুগোপযুগী তথ্য থাকে এবং আপনিও দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিতে পারেন।

৬. যেসব স্থানে এই ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি বলে জানা যাচ্ছে সেসব স্থান যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। বিশেষত হার্টের রোগী,ডায়বেটিস এবং বয়ষ্ক ব্যক্তিগণের ক্ষেত্রে এটি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।

হোম কোয়ারেন্টাইনঃ
—————–
হোম কোয়ারেন্টাইন বলতে সহজ বাংলায় ব্যখ্যা করতে গেলে একে এক কথায় বলতে হবে “সুস্থতার জন্য গৃহবন্দী জীবন”।
বেঁচে থাকতে হলে সুস্থতা আগে প্রয়োজন। আর এই দেশের এই ক্রান্তিকালে সুস্থতা একমাত্র ঘরে থাকা দিয়েই সম্ভব। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাওয়া একদম বন্ধ করে দিতে হবে।
করোনায় আক্রান্ত হলে প্রায় ১০-১৪ দিন পর্যন্ত আপনি জানতেই পারবেন না যে আপনি আক্রান্ত কি না। তারজন্যে একেবারে গৃহবন্দী থেকে,যথাসম্ভব পরিবারের সবার থেকে দূরত্ব বজায় রেখে,আলাদা শৌচাগার- আলাদা বাসনপত্র ব্যবহার করে,জামাকাপর সর্বদা পরিষ্কার রেখে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিৎ করাই হোম কোয়ারেন্টাইন।

পরিশেষেঃ
———
♦ অল্প কিছু সচেতনতাই পারে আপনার আমার জীবন রক্ষা করতে।তার জন্য নিজস্ব জায়গা থেকে যা যা করণিয় তাই করুন।
♦ বাড়ির বাইরে গেলে দয়া করে মাস্ক/গ্লাভস ব্যবহার করুন।নিজের কাপড় দিয়ে একবার ব্যবহারের পরেই ধৌত করুন।
♦ দয়া করে গুজবে কান দেবেন না।এই সময়ে  নানা অসাধু ব্যক্তি বড় বড় স্বাস্থ্য সংগঠনের নাম নিয়ে ভুয়া খবর ছড়িয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে।
♦ গুজব ছড়ানোর জন্য তারা ধর্মকেও ব্যবহার করছে।সুতরাং গুজবে কান দিয়ে আতংকিত না হয়ে সচেতন হোন।
♦ সৃষ্টিকর্তাকে ভরসা করুন-একমাত্র উনিই পারেন এই মুহুর্তে আপনার আমার জীবন রক্ষা করতে।যার যার ধর্মানুযায়ী সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করুন স্মরণ করুন।
♦ বিশ্বের নানা স্থানে নানা শহর লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।এতে করে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে কেউই ঘরের বাইরে যেতে পারছেনা আর এই মুহুর্তে এটিই সবচেয়ে জরুরি।

♠ বাকিজীবন ভালো থাকার জন্য সাময়িক এ কষ্ট মেনে নিয়ে নিজেও ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন আর আপনার পরিবার ও দেশের মানুষকেও ভালো রাখুন সুস্থ রাখুন।

করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষার উপায় ও লক্ষণ। 

জাওয়াদ হাসান প্রান্ত

 

আরও পড়ুনঃ বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া ও সময়সূচী 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.